Bengali-বাংলা

Bengali-বাংলা

পদ্ধতি সম্পর্কে

সংক্ষেপে

‘ গুরু সিয়াগ যোগা ’ (GSSY) হল সহজ পদ্ধতির ধ্যান । ধ্যানের সাথে গুরু দেবের দেওয়া এক ‘ পবিত্র মন্ত্রের ’ নাম জপ করতে হয় । নিয়মিত অভ্যাসে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সাকারাত্মক (Positive) পরিবর্তন আসে । এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা (Immunity)-র বৃদ্ধি পাওয়া । সমস্ত মানসিক চাপ বা হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জীবন লাভ করা । নিরোগ ,উদ্যমী হওয়ার ফলে মানুষের অর্থনৈতিক জীবনেও উন্নতি আসে । ধ্যান দিনে ২ থেকে ৩ বার করতে হয় । ধ্যান করার সময়সীমা হল – প্রতিবারে ১৫ থেকে ২০ মিনিট । আর ‘ নাম জপ ’ যত বেশি করা যায় সুফল তত বেশি আসে । এই ধ্যানের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হল এতে আলাদাভাবে কোন যোগাসন বা প্রণায়াম করতে হয় না । ধ্যান চলা কালীন আমাদের শরীরে নিজে নিজেই অর্থাৎ অটোমেটিক (Automatic) বিভিন্ন প্রণায়াম ও যোগাসন হতে থাকে । তাছাড়া নিয়মিত নাম জপ করতে থাকলে ক্রমশ ‘ অজপা ’ শুরু হয়ে যায় । ‘ অজপা ’ সাধকের জীবনে এক বিশেষ ঘটনা , এতে সাধকের মনের মধ্যে ‘ নাম জপ ’ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে নিজে নিজেই চলতে থাকে । যত আন্তরিক ও গভীর ভাবে GSSY অভ্যাস করা যায় সুফল ও ততটাই বেশি পাওয়া যায় ।

শক্তিপাত দীক্ষা

গুরু সিয়াগ যোগা (GSSY)-তে যে দীক্ষা প্রদান করা হয় সে দীক্ষা হল “ শক্তিপাত দীক্ষা ” । গুরু সিয়াগের প্রদান করা পবিত্র মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেই ‘ বীজ মন্ত্র ’ ক্রমাগত জপ করতে থাকলে ধীরে ধীরে কুন্ডলিনী সক্রিয় হয় । ‘ আজ্ঞাচক্রে ’ গুরুদেবের চিত্রকে মনে করে ধ্যান করলে কুন্ডলিনী ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে । যতটা আন্তরিক ভাবে GSSY অভ্যাস করা যায় আমাদের শক্তিও তত বৃদ্ধি পেতে থাকে । যত বেশি নাম জপ ধ্যান করা যায় কুন্ডলিনীও তত বেশি সক্রিয় হয় , ফলে – সাধকের মধ্যে তত বেশি সাত্ত্বিক পরিবর্তন আসতে থাকে । এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা যৌগিক দর্শনে আছে ।

সহজভাবে গুরু সিয়াগ ‘শক্তিপাত’কে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তা হল – কোন প্রদীপ কে জ্বালানোর সময় যেমন আমরা অন্য কোন প্রদীপের শিখার কাছে তার সল্‌তেটি ধরি তাতে নতুন প্রদীপের সল্‌তেটাও জ্বলতে শুরু করে শক্তিপাত দীক্ষাও এমন-ই একটি ব্যাপার । গুরু সিয়াগ এক প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ তার শক্তির কাছ থেকে আমরাও আমাদের প্রদীপকে জ্বালিয়ে নিতে পারি ।

কুন্ডলিনী শক্তির সক্রিয়তা

প্রাচীন ভারতীয় দর্শনে কুন্ডলিনী শক্তির উল্লেখ আছে । প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিকদের মতে কুন্ডলিনী শক্তিই হল ব্রহ্মান্ডের মুল শক্তি (Cosmic Energy) । মহাবিশ্বের সবকিছুই এই শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় । বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা যে গড , আল্লা , বা ঈশ্বরের উপাসনা করে তা প্রকৃতপক্ষে এই  ‘ কুন্ডলীনি শক্তি ’ । এই শক্তি সব কিছুর মধ্যেই আছে । মানুষের মধ্যেও এই শক্তি আছে । যৌগিক দর্শনের মতে আমাদের সুষুম্না কান্ডের সবচেয়ে নীচে  ‘ মূলাধার চক্রে ’ কুন্ডলিনী শক্তি সুষুপ্ত অবস্থায় অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে । ‘কুন্ডলিনী ’ সক্রিয় আছে এমন কোন শক্তি সম্পন্ন গুরু ‘ শক্তিপাত দীক্ষার ’ মাধ্যমে সাধকের কুন্ডলিনী শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । কুন্ডলিনী বিভিন্ন শক্তি চক্র অতিক্রম করে ‘সহস্রার চক্র’তে উপনীত হয় । তখন মানুষ মোক্ষ লাভ করে । ভারতীয় দার্শনিকদের মতে মোক্ষ লাভ করতে কয়েক জন্ম-ও লেগে যেতে পারে ।

ধ্যান করার পদ্ধতি(Step By Step)

  • যে ভাবে আরামদায়ক মনে হয় সেই ভাবেই ধ্যান করা যেতে পারে । প্রধানত বিছানাতে বসে করা হয় , তবে যাদের অসুস্থতার জন্যে বসতে অসুবিধা তারা চেয়ারে বসে বা চিৎ হয়ে শুয়েও করতে পারেন ।
  • গুরু সিয়াগের ছবির দিকে ২ মিনিট তাকিয়ে মনোযোগ করুন যাতে চোখ বন্ধ করলেও গুরুদেবের ছবি কল্পনা করতে পারেন ।
  • দুই চোখ বন্ধ করে মনে মনে প্রার্থনা করুন , ‘ গুরুদেব ১৫ মিনিট ধ্যান করতে চাই । ’(Help Me Meditate For 15 Minutes)
  • দুই চোখ বন্ধ রেখে যেখানে শিব , দূর্গা ইত্যাদি দেবতার তৃতীয় নয়ন আঁকা হয় সেখানে গুরুদেবের ছবিটি দেখতে থাকুন আর নাম জপ অর্থাৎ দীক্ষায় যে বীজ মন্ত্র পেয়েছেন সেটা জপ করতে থাকুন । এই প্রাথমিক কাজটি খুব গুরুত্বপূর্ন । প্রথম প্রথম গুরুদেবের ছবি আমাদের দুই চোখের মাঝখানে ফুটিয়ে তুলতে অসুবিধা হয় কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে ঠিক হয়ে যাবে ।
  • ধ্যান চলাকালীন গুরুদেবের মুখের ছবিটাকে দুই চোখের মাঝখানে দেখতে হয় আর নাম জপ করে যেতে হয় । তবে লক্ষ্য রাখবেন নাম জপের সময় যেন কোন শব্দ না হয় । জিহ্বা না নাড়িয়ে অর্থাৎ সম্পূর্ন রূপে মানসিক জপ করতে হবে ।
  • ধ্যান চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন শারীরিক অনুভুতি যেমন মাথা উপর দিকে নড়া , জোরে জোরে নিঃশ্বাস চলা , পেট ওঠা নামা বা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি হতে পারে । মুখ থেকে বিভিন্ন আওয়াজ হতে পারে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই । মাতৃশক্তি কুন্ডলীনি এই সব প্রণায়াম করায় । এর মাধ্যমেই আমাদের শরীরে কোন রোগ থাকলে তা ঠিক হতে থাকে ।
  • ধ্যানের সময় বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা মাথার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে , মন স্থির করা কঠিন হয় । কারো কারো ক্ষেত্রে কোন রকমের যৌগিক ক্রিয়া হয় না এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই । যাই হোক পরিণাম সব সময় পজিটিভ (Positive) হয় এবং বাকি সুফল ও পাওয়া যায় ।
  • ১৫ মিনিট পরে নিজে নিজেই (Automatic) ধ্যান ভেঙ্গে যাবে । কারো কারো ক্ষেত্রে যদি তা না হয় তবে ১৫ মিনিটের অ্যালার্ম লাগিয়ে নিতে পারেন ।

ধ্যান দিনে দুইবার ১৫ মিনিট করে করতে হবে । খালি পেটে বা খাওয়ার ২-৩ ঘন্টা পরে করতে পারেন । সকাল আর সন্ধ্যায় করতে পারলে ভালো তা না হলে যখন সময় পাবেন তখন  করবেন ।

গুরু সিয়াগ যোগা (GSSY) অভ্যাসের সুফল

  • যে কোন ধরণের শারিরিক ব্যাধির উপশম করে বা সারিয়ে তোলা সম্ভব ।
  • যে কোন প্রকারের মানসিক ব্যাধির উপশম বা সম্পূর্ণ ভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব ।
  • যে কোন প্রকারের মাদক দ্রব্যের নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।
  • ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগ বাড়ানো , স্মরণশক্তি শক্তিশালী করা এবং সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে ।
  • আধুনিক কর্মব্যাস্ত জীবনে যে মানসিক চাপ , হতাশাবোধ আসে তাকে কাটিয়ে মানসিক শান্তি ও উৎসাহ নিয়ে আসা যায় ।
  • গভীর মানসিক স্থিরতা ও উৎসাহ বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক , ব্যবসায়িক , ব্যক্তিগত যেকোন সমস্যা সুন্দরভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় ।
  • সর্বোপরি মানুষের আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বহুগুনে বাড়িয়ে দেয় ।

শারীরিক রোগ থেকে মুক্তি

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানব দেহের শারীরিক ও মানসিক এই দুই প্রকারের রোগের উল্লেখ আছে । চিকিৎসক বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ বা বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে তার চিকিৎসা করেন । বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের উৎস বা কারন নির্নয় করা হয় ।

প্রাচীন ভারতের কিছু দার্শনিক রোগের কারণের অন্যরকম ব্যাখ্যা দেন । তারা বলেন যে আমাদের পূর্বজনমের কোন অপরাধের প্রতিফল স্বরূপ আমরা বর্তমান জীবনে বিভিন্ন কষ্ট ভোগ করে থাকি । রোগ ব্যাধি সেই কষ্টের একটা অংশ । নিয়মিত ধ্যান ও নামজপের ফলে আমাদের মধ্যে যে পজিটিভিটি (Positivity) তৈরি হয় তা এই দুঃখ কষ্টকে কমায় । ফল স্বরূপ অসাধ্য ব্যাধিও সেরে যেতে পারে ।

ধ্যানের সময় আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রত্যঙ্গের মধ্যে বিভিন্ন প্রানায়াম কিংবা যৌগিক কার্যকলাপ চলতে থকে এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভীষনভাবে বেড়ে যায় । তাই বিভিন্ন রোগ খুব দ্রুত সেরে ওঠে । এমনকি কিছু রোগ আছে যাদের ঠিক মত ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি  সেই সব রোগ-ও ঠিক হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে ।

নেশার হাত থেকে মুক্তি

মানুষের মধ্যে তামসিক প্রবৃত্তি বেশি থাকলে নেগেটিভ (Negative) শক্তি বিভিন্ন ক্ষতিকর  মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্তি বাড়িয়ে তোলে । মানুষ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য থেকে শুরু করে গাজা , চরস , হেরোইন ইত্যাদি গ্রহন করতে থাকে । এর পরিনাম ভয়াবহ । GSSY এর নিয়মিত অভ্যাসে আমাদের তামসিক বৃত্তি সাত্ত্বিক বৃত্তি তে রূপান্তরিত হতে থাকে । যখন সাত্ত্বিক প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয় তখন আর নেশা করার কোন ইচ্ছাই থাকে না । এই নেশা করার ইচ্ছা চলে যাওয়ায় মানুষ সম্পূর্নরূপে নেশা মূক্ত হতে পারে । অর্থাৎ মাদক দ্রব্যে আসক্ত কোন ব্যক্তি যদি নিয়মিত কেবলমাত্র ধ্যান ও নাম জপ করেন তবে তিনি নেশার হাত থেকে সম্পূর্নরূপে মুক্তি পেতে পারেন ।

মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি

বর্তমান সময়ে কোন মানসিক সমস্যা নেই এমন মানুষ পাওয়া কঠিন । শারীরিক সমস্যার চেয়ে মানসিক সমস্যা এখন আমাদের বেশি চিন্তার বিষয় । ডিপ্রেশন, স্ট্রেস , ইনসোমনিয়া , মাইগ্রেন , ফোবিয়া , টেনশন ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় আমাদের কেউ না কেউ পীড়িত থাকেন । চিকিৎসা শাস্ত্রে মানসিক রোগের চিকিৎসায় যে সব ঔষধপত্র ব্যবহার করা হয় তাতে সম্পূর্ন মুক্তিলাভ করা অনেক সময় সম্ভব নয় । এতে বিভিন্ন সাইড এফেক্ট-ও থাকে । কিন্তু GSSY অভ্যাসের মাধ্যমে সব রকমের মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব এবং এর কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া-ও নেই ।

চিকিৎসকরা নেশার ওষুধ বা ঘুমের ঔষধ ব্যবহার করেন । কিন্তু নিরন্তর নাম জপ থেকেও নেশার সৃষ্টি হয় । এই নেশায় সমস্ত মানসিক রোগ ঠিক হয়ে যেতে পারে । সেই সাথে অসীম আনন্দ লাভ করা যায় ।

ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে GSSY-এর সুফল

শৈশবের প্রাথমিক শ্রেনী থেকে শুরু করে স্নাতক বা তার পরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যে পড়াশুনা করতে হয় সেই ক্ষেত্রে GSSY এক উল্লেখযোগ্য ভুমিকা নিতে পারে । নিয়মিত অভ্যাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক গঠন , স্মরনশক্তি সর্বোপরি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে উন্নত করা যায় ।

গুরু সিয়াগ যোগা(GSSY)-এর সাথে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক

  • এই সাধনা পতঞ্জলির অষ্টাঙ্গ যোগ দর্শন মেনে চলে । সহজ ও সুন্দর ভাবে অষ্টাঙ্গ দর্শনের সমস্ত ফল লাভ করা যায় ।
  • নিয়মিত মন্ত্র জপ করতে থাকলে ধীরে ধীরে ‘ অজপা ’ শুরু হয়ে যায় । অর্থাৎ মনের মধ্যে নিজে নিজেই (Automatic) মন্ত্রের জপ চলতে থাকে । অবশ্য এটা নির্ভর করছে কতটা গভীর মনোযোগ দিয়ে নামজপ করা হয়েছিলো তার উপর ।
  • আধ্যাত্মিক ক্রমবিকাশের এক বিশেষ স্তরে পৌছালে সাধক ‘ অনাহত নাদ ’ শুনতে পান । এই নাদকে মহাজাগতিক শব্দ বলা হয় । এই বিশেষ শব্দ শুনতে পাওয়া সাধকের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ন ঘটনা ।
  • নিয়মিত নামজপ ও ধ্যান করার মাধ্যমে সাধকের মধ্যে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয় । এর মধ্যে বিশেষ একটি হল ‘ প্রতিভ জ্ঞান ’ । এই জ্ঞান লাভ হলে অতীত বা ভবিষ্যতের কোন ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায় ।
  • এতে যে সমস্ত যৌগিক মুদ্রা হয় তার মধ্যে বিশেষ একটি হল ‘ খেচরী মূদ্রা ’ । এতে জিহ্বা উল্টে পেছন দিকে চলে যায় এবং গলার ভিতরের দেওয়ালে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে । এর ফলে এক বিশেষ ‘ রস ’ নিসৃত হয় । প্রাচীন মুনিরা একে ‘ পার্থিব অমৃত ’ বলেছেন । এই রস মানুষের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বহু গুনে বাড়িয়ে দেয় ফলে সাধকের সমস্ত রোগ নিরাময় হয় ।
  • এতে মানুষের তামসিক বৃত্তি ধীরে ধীরে সাত্ত্বিক বৃত্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় । অর্থাৎ যে মানসিক গঠনের জন্য মানুষ বিভিন্ন অপরাধমূলক বা নিজের বা সমাজের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজ করে থাকে , তা পরিবর্ত্তিত হয়ে উন্নত মানসিক গঠনে পরিনত হয় । মানুষ ধৈর্যশীল , বিবেকবান , আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয় । এতে মানুষের নিজের ও সমাজের উভয়েরই উপকার হয় ।
  • নিরন্তর গভীর সাধনা করতে পারলে সাধক জীবিত অবস্থাতেই মোক্ষ লাভ করতে পারেন ।

GSSY-এর স্বতন্ত্রতা ও কার্যকারীতা (Uniqueness)

  1. এতে অভ্যাসকারীর উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় না , যেমন Ð মাছ-মাংস খাবেন না , জাতি বিচার , ছুৎমার্গ —-কোন কিছুই নেই । অভ্যাসকারী নিজের ইচ্ছামতনই জীবন যাপন করতে পারেন ।
  2. পূজা-অর্চনা , উপবাস ইত্যাদি কোন ধর্মীয় আচরণ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় না ।
  3. সমস্ত রকমের কুসংস্কার থেকে দূরে রাখা হয় । বিজ্ঞান মনষ্ক মানুষের জন্য আদর্শ হল GSSY ।
  4. পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যে কোন ধর্মাবলম্বী মানুষ GSSY অভ্যাস করতে পারেন ।
  5. কোন আশ্রম বা অর্গানাইজেশনের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় না ।
  6. অন লাইন (Online) যেমন Ð Youtube , ভিডিও CD , Voice Clip , WhatsApp File যে কোন ভাবে নিজে নিজেই মন্ত্র শুনে দীক্ষা নেওয়া যায় ।
  7. মানসিকভাবে অসুস্থ অথবা শিশু , যারা নিজেরা নাম জপ ধ্যান করতে পারেনা তাদের কোন ঘনিষ্ট কোন ব্যক্তি GSSY করতে পারেন । এতেও যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায় ।
  8. এতে কোন কোর্স বা ক্লাস যোগদান করতে হয় না ।
  9. এতে কোন তাবিজ কবজ ও ঔষধ পত্র বিক্রয় করা হয় না ।
  10. এতে উচ-নীচ বিচার , জাতিভেদ , ধর্ম ভেদ বিচার করা হয় না । সবাইকেই সমানভাবে সসন্মানে গ্রহন করা হয় ।

কুন্ডলিনী শক্তির সক্রিয়তা

প্রাচীন ভারতীয় দর্শনে কুন্ডলিনী শক্তির উল্লেখ আছে । প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিকদের মতে কুন্ডলিনী শক্তিই হল ব্রহ্মান্ডের মুল শক্তি (Cosmic Energy) । মহাবিশ্বের সবকিছুই এই শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় । বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা যে গড , আল্লা , বা ঈশ্বরের উপাসনা করে তা প্রকৃতপক্ষে এই  ‘ কুন্ডলীনি শক্তি ’ । এই শক্তি সব কিছুর মধ্যেই আছে । মানুষের মধ্যেও এই শক্তি আছে । যৌগিক দর্শনের মতে আমাদের সুষুম্না কান্ডের সবচেয়ে নীচে  ‘ মূলাধার চক্রে ’ কুন্ডলিনী শক্তি সুষুপ্ত অবস্থায় অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে । ‘কুন্ডলিনী ’ সক্রিয় আছে এমন কোন শক্তি সম্পন্ন গুরু ‘ শক্তিপাত দীক্ষার ’ মাধ্যমে সাধকের কুন্ডলিনী শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারেন । কুন্ডলিনী বিভিন্ন শক্তি চক্র অতিক্রম করে ‘সহস্রার চক্র’তে উপনীত হয় । তখন মানুষ মোক্ষ লাভ করে । ভারতীয় দার্শনিকদের মতে মোক্ষ লাভ করতে কয়েক জন্ম-ও লেগে যেতে পারে ।

শক্তিপাত দীক্ষা

গুরু সিয়াগ যোগা (GSSY)-তে যে দীক্ষা প্রদান করা হয় সে দীক্ষা হল “ শক্তিপাত দীক্ষা ” । গুরু সিয়াগের প্রদান করা পবিত্র মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেই ‘ বীজ মন্ত্র ’ ক্রমাগত জপ করতে থাকলে ধীরে ধীরে কুন্ডলিনী সক্রিয় হয় । ‘ আজ্ঞাচক্রে ’ গুরুদেবের চিত্রকে মনে করে ধ্যান করলে কুন্ডলিনী ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে । যতটা আন্তরিক ভাবে GSSY অভ্যাস করা যায় আমাদের শক্তিও তত বৃদ্ধি পেতে থাকে । যত বেশি নাম জপ ধ্যান করা যায় কুন্ডলিনীও তত বেশি সক্রিয় হয় , ফলে – সাধকের মধ্যে তত বেশি সাত্ত্বিক পরিবর্তন আসতে থাকে । এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা যৌগিক দর্শনে আছে ।

সহজভাবে গুরু সিয়াগ ‘শক্তিপাত’কে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তা হল – কোন প্রদীপ কে জ্বালানোর সময় যেমন আমরা অন্য কোন প্রদীপের শিখার কাছে তার সল্‌তেটি ধরি তাতে নতুন প্রদীপের সল্‌তেটাও জ্বলতে শুরু করে শক্তিপাত দীক্ষাও এমন-ই একটি ব্যাপার । গুরু সিয়াগ এক প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ তার শক্তির কাছ থেকে আমরাও আমাদের প্রদীপকে জ্বালিয়ে নিতে পারি ।